উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩/০৬/২০২৬ ৮:৪৩ এএম , আপডেট: ২৩/০৬/২০২৬ ৮:৪৫ এএম
ছবি : এআই
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচার ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনায় পাচারকারীরা এখন ড্রোনের ব্যবহারও শুরু করেছে। এমনিতেই সীমান্তের চোলাচালানে নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে।
সর্বশেষ প্রযুক্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে ড্রোনের ব্যবহার। এমনকি ড্রোনে ইয়াবার প্যাকেট এপারে পাচারের কথাও জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাচারকারীরা কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক বনে গিয়ে এখন প্রযুক্তির পেছনে ছুটছেন। একই সঙ্গে ইয়াবার বদলে বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারের রাখাইনে (আরাকানে) পাচার হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানীকৃত সার।
 

উখিয়া সীমান্তের বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন ‘ড্রোনের ব্যবহারের কথা শুনেছি। কয়েকজন পাচারকারীর কাছে ড্রোন থাকার তথ্যও রয়েছে। তারা এসব দিয়ে বিজিবি এবং স্থানীয়দের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বলে জানি। কিন্তু ডেলিভারি ড্রোন দিয়ে ইয়াবার চালান পাচারের তথ্য আমাদের কাছে নেই।

বিজিবি অধিনায়ক জানান, সীমান্তে নজরদারি, চোরাচালান রুট পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে বিজিবিও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির কাছে পরিবহন সক্ষমতাসম্পন্ন বেশ কিছু ড্রোন রয়েছে। এসব ড্রোনের মাধ্যমে একবারে এক থেকে দুই কার্ট (প্রতি কার্টে ১০ হাজার ইয়াবা) ইয়াবা সীমান্ত পার করা সম্ভব হয়।

উদ্বেগজনক সার পাচার

এদিকে সম্প্রতি সার পাচার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। নিত্যনতুন কৌশলে পাচারকারীরা সার পাচার করছে।

সর্বশেষ কৌশলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পালংখালী স্টেশন থেকে সারের বস্তা নিয়ে পাচারকারীরা পালংখালী, খাইনখালী, বালুখালী এবং হোয়াইক্যং খাল দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় নাফ নদের তীরবর্তী চিংড়ি ঘেরে। সেখান থেকে সার পলিথিনে ভরে সুযোগ বুঝে পাচার করা হয় রাখাইনে। 

বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদের তীরের চিংড়ি ঘেরে এসব সারের বস্তাগুলো ডুবিয়ে রাখে পাচারকারীরা। বিজিবি টহলদলের গতিবিধি লক্ষ রেখে এসব সারের বস্তা নাফ নদের ওপারে পাচার করে দেওয়া হয়। এমনকি প্রতি রাতেই ৩০-৪০ বস্তা সার পাচারকালে ধরা পড়ে। কিন্তু তার পরেও পাচার রোধ করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক বস্তা সার পাচারে আড়াই হাজার টাকারও বেশি মুনাফা করে চোরাচালানিরা। সার পাচারের কাজে সবচেয়ে বেশি পরিচিত আটজন নারীর একটি দল। আনজুমান পাড়ার বটতলি এলাকার এসব নারীর ঘরে ঘরে মজুদ থাকে সারের বস্তা। নারীদের দলনেত্রী শাকেরা খাতুন (৩০) এলাকায় পরিচিত। এ ছাড়া সার পাচারকারী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে পূর্ব ফারিরবিল এলাকার বশির আহম্মেদ (৪০), কবরস্থান মোরার দুদু মিয়া (৫২), বটতলির সাইফুল ইসলাম প্রকাশ মিন্টু (৩৫), দিল মোহাম্মদ (৪২), মোহাম্মদ সোহেল (৩৫), গিয়াস উদ্দিন (৩০), আবুল খাইর, আবু তাহের ও মোহাম্মদ ইউচুপ (৩০)।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় ১৬৫ জন সার ডিলার রয়েছেন। এসব ডিলারের জন্য জুন মাসে ৪২০ ও মে মাসে ৩২০ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে কক্সবাজার এলাকায় সার ব্যবহারের উপযোগী কোনো ফসলের মাঠ না থাকায় এসব সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

তবে কক্সবাজার সার ডিলার সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হক দাবি করেন, ‘ডিলারদের বরাদ্দ হওয়া সার মায়ানমারে পাচারের অভিযোগ সত্য নয়।’

পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা উদ্বেগজনক সার পাচার নিয়ে বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানীকৃত সার এভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত জনগণকে সার পাচার রোধে এগিয়ে আসতে মাইকিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর গত দুই দিনে এলাকার লোকজন রাস্তা পাহারা দিয়ে ২৪ বস্তা সার উদ্ধার করেছেন। সুত্র, কালেরকন্ঠ

পাঠকের মতামত

 

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...

​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি

সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে যেখানে আতঙ্ক কাজ করছে, এমন ...

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...